Header Ads

কেয়ামতঃ বিজ্ঞান বনাম কোরান।


৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ তে বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা দি ডেইলি মেইলে প্রকাশিত একটি আর্টিকেল অনুযায়ী, বিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং নিজের বিস্তর গবেষণা শেষে সতর্ক করে বলেন, আমরা যে পৃথিবীতে বসবাস করছি তা অস্থিতিশীল এবং যে কোন মুহুর্তে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। ২০১৪ তে এই খবর প্রকাশিত হলে বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে ঝড় উঠে।

শিকাগো ইউনিভার্সিটির তাত্বিক পদার্থবিদ, ড. জোসেপ লিকেন, স্টিফেন হকিং এর এই আবিস্কারে সমর্থন জানিয়ে বলেন, "মানুষ আজ পর্যন্ত যা জেনেছে তার সব জ্ঞান একত্রিত করে যদি আমরা স্বাভাবিক হিসাব করি, তবে আমাদের জন্য খারাপ খবর রয়েছে। হয়ত আমরা অস্থিতিশীল ভাবে তৈরি করা এক পৃথিবীতে বসবাস করছি"।

আমরা স্বাভাবিক ভাবে ভাবি যে আমরা একটা স্থিতিশীল পৃথিবীতে বসবাস করছি, তবে বিজ্ঞান অনুসারে পৃথবী যে কোন মুহুর্তেই 'নেই' হয়ে যেতে পারে। এবং আজ পর্যন্ত এরকম কোন বৈজ্ঞানিক সূত্র আবিস্কার হয়নি যার মাধ্যমে এই 'নেই' হয়ে যাবার সঠিক সময় সম্পর্কে আমরা আন্দাজ করতে পারব।

ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির তাত্বিক পদার্থবিদ, ড. বেঞ্জামিন এলাঙ্ক, এই অস্থিতিশিলতার কারণ হিসাবে মহাবিশ্বে উপস্থিত এক বিশেষ ধরনের কণাকে দায়ী করেন। বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হচ্ছে 'হিগস বোসন' কণা। তিনি আরও বিস্তারিত ভাবে বলেন, "গবেষণা করে পাওয়া ১২৬ গিগা-ইলেকট্রন-ভোল্ট হিগস বোসন ভর প্রমাণ করে যে এই মহাবিশ্ব তার সর্বনিম্ন শক্তিস্তরে বিরাজমান নেই। বরং বাস্তবতা হল, শক্তিস্তরে মহাবিশ্বের অবস্থান বেমানান। যদি হিগস বোসন ভর ১২৭ গিগা ইলেক্ট্রন ভোল্ট হত এবং মোট ভর এর চেয়ে সামান্য কম হত তবেই বলা যেত মহাবিশ্ব স্থিতিশীল"।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বিজ্ঞানের সবচেয়ে আধুনিক এই আবিস্কার প্রমাণ করছে যে গোটা মহাবিশ্বই অস্থিতিশীল এবং এর নিয়তিই হল ধ্বংস।

১৪০০ বছর আগের একটা বই কোরান বর্তমান পদার্থবিদদের এই আবিস্কার এবং গবেষণার সত্যতা প্রমাণ করে ভবিষ্যতবাণী করেছে। মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই তাঁর সৃষ্টি সমন্ধে ভালভাবেই অবগত আছেন। কোরান বলে আল্লাহ মহাবিশ্বকে পৃথিবীর ওপর ভেঙে পড়া থেকে বাঁচিয়ে রাখেন।

এবং তিনি আকাশ স্থির রাখেন, যাতে তাঁর আদেশ ব্যাতীত ভূপৃষ্ঠে পতিত না হয়। (সুরা আল-হাজ্ব। আয়াত ৬৫)

নিশ্চয় আল্লাহ আসমান ও জমিনকে স্থির রাখেন, যাতে টলে না যায়। (সুরা-ফাতির। আয়াত ৪১)

প্রশ্ন আসে যে, আসলে পৃথিবী তাহলে কিভাবে ধ্বংস হবে। এবং এই হিগস বোসনের কণার ব্যাপারটা আসলে কি।

১৯৬০ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী পিটার হিগস ভবিষ্যৎ বানী করেছিলেন যে, মহাবিশ্বে এমন এক কণা আছে যা চোখে দেখা যায়না। কিন্তু সেই কণা সব যায়যায় আছে। এমন কি আমাদের চারপাশে এবং আমাদের মধ্যও আছে।

এই কণার কারনেই আসলে বস্তুর ভর সৃষ্টি হয়। এই হিগস বোসনের কণার কারনেই আপনার-আমার আর চারপাশের সবকিছুরই কোন না কোন ভর থাকে। আর তাই এসবের অস্তিত্ব আছে। সমসাময়িক অন্যান্য বিজ্ঞানীরাও তার সুচারু গবেষণা দেখে সম্মতি দিয়েছিলেন। এবং এই আন্তঃপারমাণবিক কণার নাম দিয়েছিলেন হিগস বোসন কণা।

সেই ভবিষ্যতবানীর প্রায় পঞ্চাশ বছর পর ১৪ মার্চ, ২০১৩ তে CERN (ইউরোপের পরমাণবিক গবেষণা সংস্থা) এর বিজ্ঞানীরা এই কণা খুঁজে পাওয়ার দাবি করেন। এই আবিষ্কারের পরপরই সম্মিলিত ভাবে পিটার হিগস এবং ফ্রাসোয়াঁ এংলার্ট নোবেল প্রাইজ পান

এই কণা খুঁজতে CERN একটি LHC (Large Hadron Collider) স্থাপন করে। যার ব্যয় হলেছিল প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। বা বাংলাদেশি টাকায় ৮২৯৭ কোটি টাকা। এই যন্ত্র তৈরি হয়েছিল বিগব্যাং এর সময়টার পরিবেশ ল্যাবে তৈরি করে পরীক্ষা করার জন্য।


এই কণা কিভাবে ভর সৃষ্টি করে তার একটা উদাহরন হল, ধরুন একটা পার্টিতে চারিদিকে লোকজন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। হঠাত একটা গুজব রটল। সেই গুজব সামনে থেকে পিছনে মুখে মুখে ছড়িয়ে পরবে। গুজব শুনতে লাইনের পাশের লোকেরা ধারাবাহিক ভাবে লাইনের মাঝে এসে শুনে আবার নিজের যায়গায় চলে যাবে। এভাবে লাইনের মাঝে একটা সমাগম সৃষ্টি হয়ে সামনে থেকে পেছনে চলে যাবে। এই সমাগমই হল হিগস বোসন পার্টিকেলের উদাহরণ। দেখা যায় না কিন্তু খুব দ্রুত সামনে থেকে পিছে ভর সৃষ্টি করতে করতে চলে যায়।

সংক্ষেপে এই হিগস বোসন কণা এমন একটি কণা যা চোখে দেখা যায় না। যা তরঙ্গের আকারে পদার্থকে ভর এবং অস্তিত্ব দেয়। কিন্তু সমস্যা হল, CERN এর গবেষণার যে হিগস বোসন পাওয়া গেল তার ভর হিবাব করে বের হল ১২৬ গিগা ইলেক্ট্রন ভোল্ট। আর এই আবিষ্কারই বিজ্ঞানীদের চিন্তায় ফেলে দিল। কারণ তারা ধারনা করেছিলেন এই ভর হবে ১২৭ গিগা ইলেক্টন ভোল্ট। যার অর্থ হচ্ছে এই মহাবিশ্ব যে কোন সময় ভেঙে নিজের ভেতরে বিলীন হয়ে যেতে পারে। সব পদার্থ তাদের ভর হারিয়ে ফেলবে।

তবে এই ব্যাপারে তারা শুধু নিজেরাই মত দেননি, আল কোরানেও এ ব্যাপারে সত্যতা পাওয়া গেছে।

যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মত এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙিন পশমের মত। (সুরা আল-কারেয়া। আয়াতঃ ৪-৫)

এছাড়াও সুরা আত-তাকভীর, যেখানে আল্লাহ পৃথিবীর ধ্বংস হওয়ার ব্যাপারে বিস্তারিত বলছেন, এই সুরাতে এমন দুটি আয়াত আছে যা পৃথিবীর ধ্বংসের ব্যাপারে আরও নিখুঁত নির্দেশনা দেয়।

"শপথ গুচ্ছের, পেছনে সরে যায়। চলমান হয় এবং অদৃশ্য হয়ে যায়।" (সুরা আত-তাকভীর। আয়াতঃ ১-৪-১৫)

তবে এই বাক্যের আরবি শব্দ দেখলে আরও নিখুঁত ভাবে বিষয়টা বোঝা যায়। বিশেষ করে 'খুন্নাস', 'আল জওয়ারি' এবং 'আল কুন্নাস' শব্দ টিনটা। খুন্নাস অর্থ অদৃশ্য বস্তু। আল জাওয়ারি অর্থ যেটা দৌড়াচ্ছে। এবং আল কুন্নাস অর্থ যা অদৃশ্য হয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। অর্থাৎ এমন একটা নক্ষত্রমালা যা দৃশ্যমান হওয়া মাত্র দৌড়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। তো এখানে কোরান কি নিয়ে কথা বলছে তাহলে? আমার ধারনা অবশ্যই সেই হিগস বোসন পার্টিকেল নিয়ে। সুতরাং বিজ্ঞান এবং কোরান মতে মহাবিশ্বের ধ্বংস হওয়ার কারণ হবে ভরশূন্যতা।

লিখেছেনঃ Asad Bin Abdullah
Powered by Blogger.